বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহাসিক মে দিবসঃ দুনিয়ার মজদুর এক হও

আজ ঐতিহাসিক মে দিবসঃ দুনিয়ার মজদুর এক হও

জাগোবাংলা.নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও দাবি আদায়ের মহান মে দিবস আজ।প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলন ও অধিকার অর্জনের সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস এই দিনটি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে।  শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা আর শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটার স্বপ্ন দেখারও দিন এটি। ঐতিহাসিক এ দিনটিকে শ্রমজীবীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে থাকেন।

তবে বিশ্বজুড়ে চলমান করোনাভাইরাস মহামারির প্রকটে এবার বিশেষ কোনো আয়োজন ছাড়াই পালিত হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম এই দিবসটির উদযাপন।

মহান মে দিবস আদতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।

শ্রমজীবী মানুষের কাছে আজ এই দিনটির আলাদা করে কোনও গুরুত্ব উপলব্ধি করা না গেলেও আজ থেকে ১৩২ বছর আগে এক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা অধিকার আদায় করে নিয়েছিলেন।

মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে শিল্পাঞ্চল এলাকায় ধর্মঘট করেন। আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানোর প্রতিবাদ করেন। এছাড়া আরও নানা দাবি ছিল। আন্দোলের সূত্রপাত শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে সেদিন বিশাল শ্রমিক জমায়েত হয়। সেখানে জড়ো হওয়া হাজার হাজার শ্রমিক এক যোগে বিক্ষোভ দেখালে গুলি চালায় পুলিশ। যার ফলে ১১-১২ জনের মৃত্যু হয়। এর থেকেই সারা বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণীর মাঝে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ এক সুরে প্রতিবাদ জানান।

• সরকার দাবি মেনে নেয়
অবশেষে ১৯০৪ সালে অ্যামস্টারড্যামে দৈনিক আটঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মিছিল ও শোভাযাত্রা করে। বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষ পয়লা মে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। শ্রমজীবী মানুষের চাপে পড়ে সরকার আট ঘণ্টা কাজের দাবি মানতে শেষ অবধি বাধ্য হয়। পরে আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে মে মাসের প্রথম দিনটি শ্রমজীবী দিবস হিসাবে পালন শুরু হয়।

• নানা দেশে মে দিবস পালন
কমিউনিস্ট অধ্যুষিত পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, কিউবা-সহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি আলাদা তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দেশগুলোতে পয়লা মে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজনও করা হয়। বাংলাদেশে দু’একটি এমার্জেন্সি ক্ষেত্র ছাড়া সমস্ত শ্রমজীবী সেক্টর, অফিস মে দিবসে বন্ধ থাকে। আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমদিবস পালিত হয়।

• শ্রমিকদের দুর্দশা
উনিশ শতকের প্রথম দিকে শ্রমিকদের প্রতি মুহূর্তে শোষিত হতে হতো মালিকপক্ষের কাছে। সপ্তাহে ছয় দিন দৈনিক ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করার পর জুটতো সামান্য মজুরি। এছাড়া কাজ করানো হতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, যেখানে রোগ-ব্যাধি ও মৃত্যু লেগেই থাকত। তখন শ্রমিকদের কোনও সংগঠন ছিল না যারা শ্রমিকদের কথা মালিকপক্ষের কাছে বলবে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©জাগো বাংলা.নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT