মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীঃ ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে বিশ্ববাসীকে উজ্জীবিত করবে’

প্রধানমন্ত্রীঃ ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে বিশ্ববাসীকে উজ্জীবিত করবে’

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের আবেদনকে চিরন্তন আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি সমসাময়িক কালেও যেমন, আগামীতেও তেমনি, যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিশ্ববাসীকে মুক্তির চেতনায় উজ্জীবিত করবে। তিনি বলেন, ৪৯ বছর ধরে জাতির পিতার ভাষণই একমাত্র ভাষণ যেটা সমগ্র পৃথিবীতে এখনও আবেদন রেখে যাচ্ছে। আর এই ভাষণ যুগ যুগ ধরে শুধু এদেশেরই নয়, সারা বিশ্বের মানুষকে উজ্জীবিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে একথা বলেন।

৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন- উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ভাষণ যে কতবার, কত দিন, কত ঘণ্টা, কত মিনিট বেজেছে, কত মানুষ এই ভাষণ শুনেছে তা কেউ হিসাব করে বের করতে পারবে না।

পঁচাত্তরের পর বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস থেকে যারা এই সংগ্রামের নেতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে, তাদের লাজ-লজ্জা আছে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল, বাংলা ভাষার দাবিতে তার যে আন্দোলন, সেটা মুছে ফেলা হয়েছিল। নাই… একেবারে অস্বীকার করে ফেলা হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিসংগ্রামে তার যে অবদান, সেটাও মুছে ফেলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এমনভাবে বিকৃত ইতিহাস তৈরি করা হল, কোনো এক মেজর বাঁশির ফুঁ দিল, আর অমনি যুদ্ধ হয়ে গেল, দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। এ রকম বিকৃত ইতিহাস! অথচ সে নিজেই চাকরি করত বাংলাদেশ সরকারের অধীনে, চারশ টাকা বেতন পেত। তাকেই বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, ঘোষক হিসেবে। ইতিহাস বিকৃতির কোন পর্যায়ে যে, বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলে দেয়া হয়েছিল।

ক্ষোভ-হতাশার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি জানি না, যারা এই ভাষণ মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছিল, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করেছিল, তারা লজ্জা পায় কি না। অবশ্য তাদের লাজ-লজ্জা আছে বলে মনে হয় না। তারা যদি নির্লজ্জই না হবে তাহলে তার (বঙ্গবন্ধু) ভাষণ, তার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করে কেউ?

তিনি বলেন, সব থেকে বড় কথা, পঁচাত্তরের পর এ ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল। ভাবলে দুঃখ হয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম … যে বয়সে এই ভাষণটা শুনলে তাদের ভেতরে দেশপ্রেম জাগ্রত হত, সেই ভাষণটি অনুপ্রেরণা দিত… এই ভাষণের তাৎপর্য অনেকে জানতেই পারেনি, বুঝতে পারেনি।

তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শের সৈনিকদের কাছে কোনো বাধা বাধা ছিল না। সব বাধা অতিক্রম করে তারা ভাষণ বাজিয়েছেন সমস্ত জায়গায়। যারা সেই ভাষণ শুনেছে, তারাই বুঝেছে, কী অমূল্য সম্পদ তারা হারিয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আজকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়ে গেছে, কাজেই বাঙালি আজকে একটা সম্মান পাচ্ছে। এটা যে শুধুমাত্র আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য, তা শুধু নয়। এটা জাতির পিতার ভূমিকা যে ছিল মুক্তির সংগ্রামে, স্বাধীনতার সংগ্রামে আজকে সেটা যখন প্রকাশ হচ্ছে, প্রচার হচ্ছে, মানুষের কাছে যাচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ না, অন্য দেশের মানুষকে প্রেরণা যোগায়, শক্তি যোগায়, সাহস যোগায় যুগ যুগ ধরে।

মুক্তিযুদ্ধে ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানা ৯ মাস স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে ভাষণের বিভিন্ন অংশ বাজানো হত। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছেন, এ ভাষণে তারা প্রেরণা পেতেন, শক্তি পেতেন।

প্রধানমন্ত্রী এসময় মুজিববর্ষে দেশে আর কেউ গৃহহীন থাকবে না মর্মে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মুজিববর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে- এটা হতে পারে না। জাতির পিতার আদর্শের সৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীরও দেশের ও জাতির জন্য একটা দায়িত্ব আছে। সেটা যদি করতে পারেন তবে তা-ই হবে স্বার্থকতা। তিনি বলেন, ধরে নিন এটাই আপনাদের কাছে আমার একটা দাবি। আপনারা ঘর করে দেবেন, প্রয়োজনে টাকা আমি দেব।

শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তার সরকার এবং দল মুজিববর্ষ উদযাপনে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং সেখানে অনেক অর্থও ব্যয় হবে। তবে, মুজিবর্ষে দেশের সকল মানুষকে বাসগৃহের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারলে এর চেয়ে বড় কাজ আর হতে পারে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। এসময় জাতির পিতার ভাষণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন ‘আমার জীবনের একমাত্র কামনা বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবন পায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সবসময়ই বলেছেন ‘এই বাংলাদেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো তিনি নিশ্চিত করতে চান।’ এজন্য স্বাধীনতার পর তিনি যে সংবিধান দিয়েছিলেন সেই সংবিধানেও এই মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, এখনও আমাদের দেশে নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়ে যায়। এখনও কিছু মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন। আমি চাই এই মুজিবর্ষের ভেতরেই বাংলাদেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেখানে আমার অনুরোধ থাকবে আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মী, এত আদর্শের সৈনিক আপনারা, যার যার নিজের গ্রামে, নিজের এলাকায়, নিজেরা একটু খোঁজ নেন, কয়টা মানুষ গৃহহীন বা ভূমিহীন আছে। তাদেরকে আমরা ঘর করে দেব।

তিনি বলেন, আমরা চাই একটি মানুষও যেন গৃহহারা না থাকে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ, আমার এই কথাটা দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। আপনারা চেষ্টা করেন ঘর করে দিতে। না পারলে আমরা টাকা দেব ঘর করার জন্য।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভায় প্রারম্ভিক বক্তৃতা করেন। আলোচনা সভায় দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম এবং মুহম্মদ ফারুক খান এবং ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বক্তৃতা করেন।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং মাহবুব-উল-আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফি এবং উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচিও বক্তৃতা করেন।

শিমূল মুস্তফা অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতা- ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’, আবৃত্তি করেন। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সভা পরিচালনা করেন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©জাগো বাংলা.নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT