সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রাণভয় আর ক্ষমা এই দুই তাগিদে সুন্দরবন ছাড়ছে জলদস্যুরা

বাগেরহাট শহরের এই এলাকাটা আর পাঁচটা মফস্বল শহরের মতোই। গাছগাছালিতে শ্যামল সবুজ। কোলাহল থেকে দূরে, নীরব, নিঝুম জনপদ। শুধু মাঝে মাঝে এই নিস্তব্ধতার বুক চিরে শোনা যায় মোটরসাইকেল ইঞ্জিনের আওয়াজ। এখানেই মোস্তফা শেখের মোটরসাইকেল সারাইয়ের দোকান।

এক দুপুরে মোস্তফা শেখের গ্যারেজে গিয়ে দেখা গেল আর পাঁচটা গ্যারেজের মতোই তা সাধারণ। দুজন কর্মচারি, থাকে সাজানো স্পেয়ার পার্টস, কম্প্রেসরের শব্দ, লুব্রিকেন্ট আর পোড়া তেলের গন্ধ। এলাকার লোকজন মোস্তফা শেখকে চেনে এই গ্যারেজের মালিক হিসেবে।

কিন্তু তার আসল পরিচয় শুনলে অনেকেই চমকে যাবেন। কারণ এই মোস্তফা শেখই ছিলেন সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ জলদস্যু দল মাস্টার বাহিনীর প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার।

“আমাদের এখনকার জীবন তো বোনাস পাওয়া জীবন। আমাদের তো বেঁচে থাকারই কথা ছিল না। সরকার, র‍্যাব, মিডিয়া — এদের জন্যেই আমরা এখন সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি,” বলছিলেন মোস্তফা শেখ, “আমার স্ত্রী, আমার মেয়ে, পরিবার – এদের সাথে থাকতে পারছি। সৎ পথে দুটো পয়সা রোজগার করে দু’মুঠো খেতে পারছি। আমার কাছে এর চেয়ে বড় শান্তি আর কিছু নেই।”

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবনে কয়েক দশক ধরে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে যেসব জলদস্যু দল, সরকারের এক বিশেষ ক্ষমার আওতায় তারা এখন দলে দলে আত্মসমর্পণ করছে। ফিরে আসছে স্বাভাবিক জীবনে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ফরে আসছে শান্তি। এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যেসব জেলে, মৌয়াল, কাঁকড়া শিকারি – তারা এখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে শুরু করেছেন।

বনের কাঠ চুরি কম হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বন কর্মকর্তারা। আর জলদস্যুদের সহায়তায় অবৈধ শিকার কমে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পাচ্ছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©জাগো বাংলা.নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT