বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৭ অপরাহ্ন১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধন আইন: মুখোমুখি ছাত্র ও সরকার

ভারতের যে বিতর্কিত আইনটি প্রতিবেশী তিনটি রাষ্ট্রের অমুসলিমদের নাগরিকত্বের সুযোগ দিচ্ছে, সেই আইনটির প্রতিবাদে গত কয়েকদিন সারা ভারতজুড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে এসেছে।

তারা প্রতিবাদ করছে, কারণ তারা অনুভব করছে যে এই ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন’টি পক্ষপাতমূলক এবং ভারতের কুড়ি কোটি মুসলমান সংখ্যালঘুকে কোণঠাসা করে ফেলবার একটি হিন্দু-জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, নতুন আইনটি ‘তাদের জন্য যারা বছরের পর বছর নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে এবং ভারত ছাড়া আর কোথায় তাদের যাবার জায়গা নেই’।

দিল্লি এবং উত্তরাঞ্চলীয় আলীগড় শহরের দুটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে পুলিশের হামলা হয়েছে, এমন অভিযোগের জেরে ভারত জুড়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্যাম্পাসগুলোর ভেতরে পুলিশ ঢুকে পড়ে এবং অভিযোগ আছে লাইব্রেরি, পাঠকক্ষ, এমনকি টয়লেটে ঢুকে পর্যন্ত তারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

ওই সহিংসতার এমন সব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যা রীতিমত পীড়াদায়ক। দেশজুড়ে ছাত্রদের উত্তেজিত হওয়ার পেছনে এই ভিডিওগুলিও জ্বালানী হিসেবে কাজ করেছে।

ছাত্র এবং শিক্ষকেরা একেবারেই ছেড়ে কথা বলছে না।

ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি, অশোকা ইউনিভার্সিটি কঠোর ভাষায় এক বিবৃতি দিয়েছে যেখানে লেখা হয়েছে ‘রাষ্ট্রের স্পন্সর করা সহিংসতা’।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়া ভারতের সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছে, ‘ছাত্রদের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে’।

একটি ভিডিওতে আইনের এক ছাত্র প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমরা কি আদৌ কোন গণতন্ত্রে বাস করছি’?

মি. মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বরাবরই ভিন্নমত পোষণকারীদের ভালো চোখে দেখে না এবং এটা এখন স্পষ্ট যে ছাত্রদের এখন সমস্যার উৎস হিসেবেই দেখছে সরকার।

কিন্তু চলমান ছাত্র জাগরণ আমাদেরকে এমন একটি দেশের জনগণের মানসিকতা সম্পর্কে কিছু বার্তা দিচ্ছে যে দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বয়স পঁচিশের কম।

একটি হলো, মুসলমান ছাত্রদের সংগে প্রতিবাদে অন্য এমন সব সম্প্রদায়ের সদস্যরাও যোগ দিচ্ছে যাদের ওপর এই আনটি সরাসরি কোন প্রভাব ফেলবে না।

বিশ্লেষক আজায আশরাফ বলছেন, এই বিক্ষোভ “ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সকল ভারতীয়র সেই লালিত আদর্শকে পুনরুত্থিত করেছে, যেখানে সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে”।

দ্বিতীয়ত, কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার, নাগরিক পঞ্জি, হামলার লক্ষে পরিণত হওয়া এবং রাজনীতিতে গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার মতো কিছু ধারাবাহিক বিপত্তিকর ঘটনাপ্রবাহের পর নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে মুসলামনরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, মোদীর সরকারের অধীনে এই মুসলমানেরা নানাভাবেই প্রায় ‘অস্তিত্বহীন’ হয়ে পড়ছেন।

মি. আশরাফ বলছেন, “এই ছাত্র বিক্ষোভ মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকে একটি সন্ধিক্ষণ এনে দিয়েছে”।

আরও যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তাহলো বিক্ষোভ ছড়িয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাসগুলোতে যা যেগুলো প্রথাগতভাবে প্রতিবাদ বা আন্দোলনের বাইরেই ছিলো।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©জাগো বাংলা.নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT