বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শীতের সময় টানা সূর্যস্নান নয়, মিঠে রোদেই লুকিয়ে অতিবেগুনি বিপদ

শীতের সময় টানা সূর্যস্নান নয়, মিঠে রোদেই লুকিয়ে অতিবেগুনি বিপদ

নাসরীন সুলতানাঃ ‘মায়া-মমতার মতো এখন শীতের রোদ
মাঠে শুয়ে আছে আর কেউ নেই।’

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তো আছেনই, কালজয়ী হওয়া অনেক কাব্যেই শীতের রোদের ঝিকিমিকি! ‘বারান্দায় রোদ্দুর’ তো এখনও মুখে মুখে! আদরের শীতে ভাসছে শহর। পারদ নামছে। কখনও বারো, কখনও এগারোর ঘরে। শীতকাল মানেই রিকশায় হুড খোলা। পাড়ার মোড়ে অকারণ জটলা। বেলা বাড়তেই সূর্যস্নান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

এখানেই লুকিয়ে বিপদ। অতিরিক্ত সময় রোদে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। বাড়ে স্কিন ক্যানসারের সম্ভাবনা। আসলে শীতকালে পৃথিবীর বাইরে থাকা ওজন লেয়ার পাতলা হয়ে যায়। অতিবেগুনি রশ্মি অনেক বেশি করে গায়ে লাগে। তার উপর শীতকালে ত্বকে মেলানিন উৎপাদন কমে যায়। ফলে, অতিবেগুনি রশ্মির রেডিয়েশন অনেক বেশি করে পড়ে ত্বকের উপর। এমনটাই জানালেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম মুখোপাধ্যায়। তাঁর পর্যবেক্ষণ, শীতকালে বেশিক্ষণ রোদে থাকলে ত্বক স্বাভাবিক রং হারায়, বলিরেখা পড়ে, পুরু হয়ে যায়। সামান্য আঘাতে কালশিটে দাগ পড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে স্কিন ক্যানসারও হয়।

sunbath-1

এ তো গেল ত্বকের ক্ষতি। হার্টের বা রক্তচাপের রোগীদের দীর্ঘক্ষণ রোদে বসে থাকা প্রাণঘাতী হতে পারে। ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা হলে কিংবা গায়ে জ্বর থাকলে রোদ পোহানো যাবে না। সূর্যস্নান করার সময় অবশ্যই মাথায় ভিজে তোয়ালে বা গামছা রাখা উচিত। তবে ২০-২৫ মিনিটের বেশি ‘সানবাথ’ নয়। মানতে হবে আরও কিছু নিয়ম। যেমন ভরা পেটে সূর্যস্নান নয়। ঘণ্টা দু’য়েক আগে খাওয়া সেরে নিতে হবে। এমনটাই জানালেন নেচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ডা. অমরেন্দ্রনাথ দাস। তাঁর মত, সূর্যস্নানের অনেক উপকারিতা রয়েছে। পরিমিত রোদ গায়ে লাগালে শরীর সতেজ থাকে। চনমনে হয় মন। কর্মক্ষমতা বাড়ে। বাড়ে রক্তসঞ্চালন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

ভাল-খারাপ নিয়েই শীতের রোদ্দুর। বিদেশে স্কিন ক্যানসারের জন্য ‘সানবাথ’ অনেকাংশে দায়ী। চামড়া ট্যান করার নেশায় বিদেশিরা দীর্ঘক্ষণ স্বল্প পোশাকে রৌদ্রস্নান করেন। ভারতে অবশ্য স্কিন ক্যানসারের রোগী হাতেগোনা। তবু সাবধানের মার নেই। দীর্ঘক্ষণ টানা রোদে না বসাই ভাল। এমনটাই জানালেন রেডিওথেরাপিস্ট ডা. সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, শীতের সময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় অতিবেগুনি রশ্মি সহজেই ত্বকের সংস্পর্শে পৌঁছে যায়। জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় বছরের অন্য সময় আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির তেজ অনেকটা কমে যায়। শীতে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ত্বকের ক্ষতিও বেশি হয়। তাই পৌষ-মাঘের রোদ বিপজ্জনক। ত্বকের সজীবতা ও হালকা বর্ণ ধরে রাখার জন্য শীতের সময় টানা রোদ এড়িয়ে চলাই ভাল।
শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©জাগো বাংলা.নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT