বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১০ পূর্বাহ্ন২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হেসেখেলেই জিম্বাবুয়েকে হারালো মাশরাফিরা

হেসেখেলেই জিম্বাবুয়েকে হারালো মাশরাফিরা

রোমান রুহানঃ গত বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের কাছে হারের পর শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। তার সাত মাস পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমে বিশাল জয় পেল টাইগররা। জয়ের ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন লিটন দাস (১২৬ রান)। রবিবার সিলেটে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ওয়ানডেতে রানের দিক থেকে বাংলাদেশের এটি সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে টাইগারদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৩ রানের। এই জয়ে ৩ ম্যাচের ওয়ানডেতে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩২২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৯.১ ওভারে ১৫২ রানেই অলআউট হয় শেভরনরা। বল হাতে বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন ৩টি, মাশরাফি ও মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ের ওয়েসলি মাদভেরে ৩৫ ও তিনোতেন্দা মুতুমবোজি ২৪ রান করেন। মঙ্গলবার একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।

৩২২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ওপেনার তিনাশি কামুনহুকামুয়ে (১) ফেরেন দলীয় এক রানে। তার করা ওভারের চতুর্থ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান তিনি। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নিলেন চামু চিবাবা। পরে মিললো ব্যাটে বল স্পর্শের প্রমাণ। বেঁচে গেলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। সে সময় ৯ রানে ছিলেন তিনি। এক বল পর এলবিডব্লিউর সফল রিভিউয়ে রেজিস চাকাভাকে ফেরায় বাংলাদেশ। অফ স্টাম্পের বাইরে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন চাকাভা। ব্যাটে খেলতে পারেননি। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বল আঘাত হানতো মিডল স্টাম্পে। ১৮ বলে ১১ রান করেন চাকাভা।

দলীয় স্কোরকার্ডে কোন রান যোগ না হতেই জিম্বাবুয়ের শিবিরে এবার মাশরাফির আক্রমণ। বিশ্বকাপের পর প্রথম ম্যাচে নেমেই উইকেটের দেখা পেলেন ম্যাশ। চামু চিবাবাকে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে পাঠান টাইগার দলপতি। ২২ বল খেলে ১০ রান তুলেছেন তিনি।

সাইফউদ্দিন ও মাশরাফির পর এবার জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত করলেন তাইজুল ইসলাম। বোল্ড করে ফিরিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলরকে। ১৫ বল খেলে ১ চারে ৮ রান করে যান তিনি।

দলীয় ৭৯ রানে মোস্তাফিজের বাউন্সারে মাহমুদউল্লাহর চমৎকার ক্যাচে ফিরলেন সিকান্দার রাজা। ৩২ বলে দুই চারে ১৮ রান করেন রাজা। ভাঙে ৩৫ রানের জুটি। এই ক্যাচ নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে(৬০) ছাড়িয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ। ৬১ ক্যাচ নিয়ে ওয়ানডেতে আউটফিল্ডে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি। দলীয় ৮৪ রানের মাথায় মিরাজ ফিরিয়েছেন থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান ওয়েসলি মাদভেরেকে। মিরাজের বলে কভারে মাশরাফি বিন মর্তুজার হাতে ধরা পড়েন মাদভেরে। ৪৪ বল খেলে ৫ চারে ৩৫ রান করে যান তিনি।

১০৬ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। রান আউটে কাটা পড়ে সাজঘরে ফিরেছেন রিচমন্ড মুতুম্বামি। তাইজুল ইসলামের ওভারে কভারে ঠেলে রান নিতে গিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর থ্রোতে মুশফিক স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। ২ ছক্কায় ১৭ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন ডোনাল্ড টিরিপানো। ৩৩তম ওভারে মিরাজের করা তৃতীয় বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে যান টিরিপানো। ১৩ বল খেলে ২ রান করে যান তিনি।

এরপর নিজের তৃতীয় শিকারে কার্ল মুম্বাকে ফিরিয়েছেন সাইফউদ্দিন। তাকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ রান করে যান তিনি। জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেটটি তুলে নেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা। এটি ইনিংসে তার দ্বিতীয় শিকার। মুতুমবোদজিকে (২৪) তুলে নেন টাইগার দলপতি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। দু’টি করে উইকেট নেন মাশরাফি এবং মিরাজ আর একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল ইসলাম।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধীরগতিতে খেলেছেন তামিম। তাই মন্থর ব্যাটিংয়ের মাশুলও দিতে হল তামিমকে। ইনিংসের ১৩তম ওভারের ৪র্থ বলে ওয়েসলি এনদলোভুর বলে এলবিডাব্লিউ’র শিকার হয়ে ফিরতে হয় তামিমকে। ৪৩ বল খেলে ২৪ রান করেন তামিম।

এরপর ভালো খেলতে থাকা শান্ত ফিরে গেলেন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে। রিভিও না থাকায় সাজঘরে ফিরতে হলো তাকে। ব্যক্তিগত ২৯ রানে আউট হলেন তিনি। মুতোম্বোজির বলে তার আউট হওয়ায় দলীয় ১৪০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারাল বাংলাদেশ।

ওপেনিংয়ে নেমে দুর্দান্ত খেলছেন খেলেছেন লিটন দাস। ৪৫ বলে তুলে নিয়েছিলেন ব্যক্তিগত অর্ধশত। পরের ৫০ রান করতে তিনি খেললেন ৫০ বল। অর্থাৎ, ৯৫ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন লিটন। ইনিংসের ৩৪তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন লিটন দাস। তবে পায়ে ক্র্যাম্প করায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যানকে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে তথা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন লিটন। লিটনের শতক পূর্ণ হতেই প্যাভিলিয়নের পথে পা মাড়ালেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। দলীয় রান তখন ১৮২ আর মুশির নামের পাশে ২৬ বলে মাত্র ১৯ রান।

লিটন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরলে উইকেটে আসেন মোহাম্মদ মিথুন। চতুর্থ উইকেটে রিয়াদের সঙ্গে গড়েন ৬৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখেন। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ক্রিস এমপফুর বলে এলবিডাব্লিউ’র শিকার হয়ে রিয়াদ ফেরেন দলীয় ২৭৪ রানে। এর আগে রিয়াদ ২৮ বলে ২টি চার এবং ১টি ছয়ে ৩২ রান করেন।

শেষ দিকে দারুণ ব্যাটিং করে অর্ধশতক তুলে নেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে ফিফটি হাঁকানোর পরেই এমপফুর দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন মিথুন। দলীয় ২৮৯ রানে ব্যক্তিগত ৪১ বলে ৫০ রানে ফেরেন মিথুন। তার ইনিংসে ৫টি চারের সঙ্গে ছিল একটি ছয়ের মারও। শেষ দিকে মিরাজের ৭ আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ঝড়ো ১৫ বলে ২৮ রানে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩২১ রানে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে দু’টি উইকেট নেন ক্রিস এমপফু আর একটি করে উইকেট তুলে নেন টিনোটেন্ডা মুতোমবোদজি, ডোনাল্ড তিরিপানো, ওয়েসলি মাধেভার এবং কার্ল মুম্বা।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©জাগো বাংলা.নিউজ কর্তৃক সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT